স্বাধীনতা দিবস কবে পালন করা হয়

 পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত কে জানিয়ে, স্বাধীনতা ঘোষণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি করে তুলে নতুন নিশান। উড়িয়ে দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে হে স্বাধীনতা। সত্যি এসেছে মহার্ঘ্য স্বাধীনতা। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শোর্য-বীর্যের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন স্বাধীনতা দিবস।বিশ্বের কাছে বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাঙালি জাতি।
ছবি :- সংগৃহীত হয়েছ Informer BD থেকে
পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিনের নাম স্বাধীনতা দিবস। কারোর দোয়ার দানে নয়, সাগর সমান রক্ত বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশ কে স্বাধীন করা হয়েছে। তাই চলুন আমরা জেনে নেই এই বীরের জাতির স্বাধীনতা সম্পর্কে এবং স্বাধীনতা দিবস কবে পালন করে থাকে।

পোস্ট সূচীপত্র :-স্বাধীনতা দিবস কবে পালন করা হয়

স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে ৫ টি ব্যাখ্যা

  • বাঙালি জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম লাভ করে স্বাধীন সার্বমৌত বাংলাদেশ। যখন ইংরেজরা এদেশ ত্যাগ করেছিল তখন এই উপমহাদেশকে ভারত ও পাকিস্তান নামের এই দুই দেশে বিভক্ত করে যায়। আর পাকিস্তান তখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান, বাংলাদেশ তথা পূর্ব পাকিস্তানের উপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক শোষণ চালাতে থাকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা।
  • মূলত শুরুটা হয় ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার ওপর আঘাত দিয়ে,বাংলাকে যখন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবিতে বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে নেমে আসে তখন বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দিতে হয় পুলিশের গুলিতে, তখন থেকেই বলতে গেলে বুঝতে পারে বাঙালী জাতি স্বাধীনতাই তাদের আসল মুক্তির উপায়, সংগ্রামের শুরুটা হয়েছিল এখানেই। 
  • ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, ৬৪ এর ৬ দফা দাবি তারই ইঙ্গিত দিয়েছিল। এই জাতি তখন বুঝতে থাকে কোনো ক্রমেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন হস্তান্তর করবেনা পাক বাহিনী বা সরকার। ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হলোনা, উল্টো আলোচনার নামে টালবাহানা করতে শুরু করে তখন সকলেই বুঝতে পারে বাঙালী জাতির সামনে কি আসতে চলেছে। কিন্তু বাঙালি জাতি এগিয়ে যেতে থাকে সেই রক্তক্ষয়ী ২৬ মার্চ এর ইতিহাসের দিকে।
  • এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা- ৭মার্চের এই ভাষণে শেখ মজিবুর রহমান এক বুদ্ধি দিপ্ততার প্রমাণ দেন যা ইতিহাসের পাতায় বাংলার স্বাধীনতার একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস হয়ে থাকবে। তার ভাষণের মধ্যেমে বুঝিয়েছিলেন বাঙালিকে এবার স্বাধীনতার সংগ্রামই করতেই হবে। আর ঠিক তখন থেকেই পুরো জাতি ঔক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।
  • বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে তাদেরকে সঠিক সমাধানের বার্তা দেওয়া হয়,কিন্তু পাকিস্তানিরা যখন শান্তির পথ বেচে নিলনা তখন ২৫ মার্চ টিক্কা খান, জেনারেল রাও ফরমান আলী খান, জেনারেল নিয়াজি এদের মাস্টারপ্ল্যানে সরাসরি বাঙালিদের মৃত্যু পুরিতে রুপান্তর করে মেতে উঠে মহাউৎসবে। সেই রাতেই মুজিব গ্রেপ্তার হবার পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৬ মার্চ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এরপরই শুরু হয়ে যায় রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধো।

২৬ মার্চ কে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হয় কবে

শেখ মুজিব কে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে তার নিজ বাসভবন থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। টিক এর পূর্ব মহূর্তে বেতার কেন্দ্রের মধ্যেমে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দিয়ে যায়। সেখানে তিনি বলেন: এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা,আজকের পর থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই,আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যকে উৎখাত করে এবং চুড়ান্ত বিজয়ের আগ মহর্ত পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যহত থাকুক। একদম ঠিক করে বললে ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারিতে  বিশেষ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২৬ মার্চ কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কত সালে 

১৯৭২ হতে প্রতি বছর ২৬ মার্চ তারিখে উদযাপিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় দিবস। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারিতে বিশেষ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২৬ মার্চ কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হয়। যা বাঙালি জাতির গর্বের দিন।

জাতীয় দিবস কবে 

২৬ মার্চ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে (রাত১২:২০মিনিট)শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রপ্তারের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই দিন টাকে স্মরণ করে ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সরকার দিন টকে জাতীয় স্বাধীননতা দিবস ঘোষণা করেন।

১৯৭১ সালে কি হয়েছিল

অবশেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যেমে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের সপ্তম জনবহুল স্বাধীন দেশ হিসাবে আগমন ঘটে।জন্ম হয় লাল-সবুজ পতাকার,এ দিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসে,দেশমাতৃকাকে রক্ষার উদ্দেশ্য বিলিয়ে দেয় নিজের জীবন। এই বীরের জাতি দক্ষিন এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিতে ভূমিকা রাখে।

২৬ মার্চ কেন স্বাধীনতা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অতর্কিত ভাবে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তারের পূর্ব মহূর্তে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঘোষণার ফলে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি  স্বাধীন-সার্বভৌমত বাংলাদেশ।একটি জাতির স্বাধীনতা যেমন গৌরবের ঠিক তেমনি বেদনারও বটে। 

অনেক নিরীহ মানুষের তাজা রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই বিজয়। এই স্বাধীনতা সংগ্রামের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও পটভ,মি। ৪৭-এর অদ্ভুত দ্বিজাতিতত্ত্বের বিভক্তি, ৪৮ থেকে শুরু ৫২ একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তদান সংগ্রাম -আন্দোলন, ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে রায়, ৬৬-এর ৬ দফা দাবির মধ্যেমে বাঙালির মুক্তি সনদ ঘোষণা, এবং এরকম নানান অবিচারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি সংগ্রামি হয়ে উঠে এবং এ দেশকে স্বাধীন সার্বভমৌত হিসেবে অর্জন করে।


আশা করি উপরের পুরো আর্টিক্যালটি পড়েছেন এবং জানতে পেরেছেন স্বাধীনতা দিবস কবে পালন করা হয়। এইরকম আরো নতুন নতুন পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট টি ফলো করে সাথে থাকুন ধন্যবাদ।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url