সূরা ইয়াসিন এর বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদ- সূরা ইয়াসিন এর গুরুত্ব ও ফজিলত

  সূরা ইয়াসিন এর বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদ- সূরা ইয়াসিন এর গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা। নবী করীম সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ভাবে এসূরা পাঠ করবে তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজা উন্মুক্ত থাকবে। সে যেকোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।

ছবি:- সংগৃহীত।

 

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময় 

(১)

يس
ইয়া-সী-ন

>ইয়া সীন

(২)

وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ
অল্ ক্কর্ আ-নিল হাকীম্।

>প্রজ্ঞাময় কোরআনের কসম

(৩)

إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
ইন্নাকা লামিনাল্ মুসালীন।

>তুমি অবশ্যই রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত।
 

(৪)

عَلَىٰ صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আলা-ছির-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্

>তুমি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত। 

(৫)

تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ
তান্যীলাল্ আযীযি রহীম্।

>কুরআন অবতীর্ণ পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহর নিকট হতে।

(৬)

لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُون
লিতুন্যিরা ক্কওমাম্ মা য়উন্যিরা আ-বা-য়ুহুম্ ফাহুম্ গ-ফিলূন্।

>  যাতে তুমি  সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে যাদের পিতৃ পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, যার ফলে তারা গাফিল।
 

(৭)

لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَىٰ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
লাক্কাদ্ হাকক্কল্ ক্কওলু আলা য় আকছারিহিম্ ফাহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।

> তাদের অধিকাংশের জন্য সেই বানী অবধারিত হয়েছে, সুতরাং তারা ঈমান আনবেনা।

(৮)

إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُمْ مُقْمَحُونَ
ইন্না-জ্বা আল্না-ফী য় আ না- ক্বিহিম্ আগ্লা- লান্ ফাহিয়া ইলাল আযক্কা-নি ফাহুম্ মুকমাহূন্।

>  আমি তাদের গলদেশে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরিয়েছি,ফলে তারা উধ্বমুখী হয়ে গেছে। 

(৯)

وَجَعَلْنَا مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
অজ্বা আল্না-মিম্ বাইনি আইদী হিম্ সদ্দাও মিন্ খল্ফিহিম্ সাদ্দান্ ফায়াগ্শাইনা-হুম ফাহুম্ লা-ইয়ুব্ছিরুন্।

>  আমি তাদের সম্মুখে প্রাচীর ও পশ্চাতে প্রাচীর স্হাপন করেছি এবং তাদেরকে আবৃত করেছি, ফলে তারা দেখতে পায়না। 

(১০)

وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
অসাওয়া-য়ুন্ আলাইহিম্ আ আন্যাতা হুম ্ আম্ লাম্ তুন্যিহুম্ লা-ইয়ুমিনুন।

> তুমি  তাদেরকে সতর্ক কর কিংবা না কর তাদের জন্য উভয়ই সমান,তার ঈমান আনবেনা।

(১১)

إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ ۖ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
ইন্নামা-তুন্যিরু মানিওাবা আয যিকর অখশিয়া রাক্ষা-না বিল্গাইবি ফাবাশ্শিহু বিমাগ্ফিরতিও অআজরিন্ কারীম।

> তুমি শুধু তাদেরকেই সতর্ক করতে পার যারা উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় রাহমানকে ভয় করে। অতএব তুমি তাদেরকে ক্ষমাও মহা পুরস্কারের সংবাদ।

 (১২)

إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ

ইন্না- নাহ্রু নুহ্য়িল মাওতা অনাক্তুবু মা ক্কাদ্দামু অআ ছা রহুম,অকুল্লা শাইয়িন্ আহছোয়াইনা হু ফী য় ইমা মিম্ মুবীন।


>  আমিই মৃতকে করি জীবিত এবং লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা তারা পশ্চাতে রেখে যায়, আমি প্রত্যেক বিষয়কে স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।

(১৩)

وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلًا أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ

অদ্ব্রিব্ লাহুম্ মাছালান আছ্হা-বাল্ ক্কইয়াহ,ইয জ্বা য়াহাল্ মুসালূন।

> তাদের নিকট উপস্থিত কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত, তাদের নিকট এসেছিলো রাসূলগণ।

(১৪)

إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ
ইয্  আসালনা য় ইলাইহিমুছ নাইনি ফাকায্যাবুহুমা ফা আয্যায্না বিছা লিছিন্ ফাক্ক লু য় ইন্না য় ইলাইকুম মুসালুন।

> যখন আমি তাদের নিকট পাঠিয়েছিলাম দুজন রাসুল, কিন্তু তারা তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলল,তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করেছিলাম তৃতীয় একজন দ্বারা এবং তারা বলেছিলঃ আমরাতো তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছি।

(১৫)

قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَٰنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ
ক্কা-ল্ মা য় আন্তম ইল্লা বাশারুম মিছলুনা অমা য় আন্যালা রক্ষা ন মিন শাইয়িন ইন আন্তম ইল্লা তাক্যিবৃন্।

> তারা বললঃতোমরাতো আমাদের মত মানুষ, দয়াময় কিছুই অবতীর্ণ করেন নি।তমরা সব মিথ্যা বলছ।

(১৬)

قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ
ক্ক ল্ রব্বুনা ইয়া লামু ইন্না য় ইলাইকুম্ লামুসালুন।

> তারা বললঃ আমাদের রাব্ব জানেন যে, আমরা অবশ্যই তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছি।

(১৭)
وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ
অমা- আলাইনা য় ইল্লাল্ বালা- গুল্ মুবীন।

> স্পষ্ট ভাবে প্রচার করাই আমাদের দ্বায়িত্ব। 


(১৮)

قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ ۖ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
ক্ক-লূ য় ইন্না - তাত্বোয়াইয়্যানা-বিকুম্,লায়িল্লাস্ তান্তাহু লানা জুমান্নাকুম্ অলা ইয়ামাস্ সান্নাকুম্ মিন্না- আযা-বুন্ আলীম।

> তারা বললঃ আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি।যদি তোমরা বিরত না হও তাহলে তোমাদেরকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবশ্যই আপতিত হবে।

(১৯)
قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ ۚ أَئِنْ ذُكِّرْتُمْ ۚ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ
ক্ক লু ত্বোয়া য়িরুকুম মা আকুম্ আয়িন্ যুক্কিতুম, বাল আন্তুম ক্কওমুম্ মুস্রিফুন্।

> তারা বললঃ তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে, এটা কি এ জন্য যে আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি? বস্ততঃ তোমরা এক সীমা লংঘনকারী সম্প্রদায়।

(২০)

وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَىٰ قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ
অজ্বা-য়া মিন্ আকছোয়াল্ মাদীনাতি রাজুলুঁই ইয়াস্‘আ-ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমিত তাবি‘উল্ মুরসালীন্

> নগরীর প্রান্ত হতে এক ব্যক্তি ছুটে এলো, সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! রাসূলদের অনুসরণ কর।

(২১)

اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ
ইওাবিঊ মাল্লা-ইয়াস্য়ালুকুম্ আজরও অহুম্ মুহ্তাদূন।

> অনুসরণ কর তাদের যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায়না এবং তারা সৎ পথপ্রাপ্ত।

(২২)

وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
অমা-লিয়া লা য় আ'বুদুল্লাযী ফাত্বোয়ারানী অ ইলাইহি তুরজ্বাঊন।

> আমার কি যুক্তি আছে যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার নিকট তোমরা প্রত্যাবতিত হবে আমি তার ইবাদত করবনা?

(২৩)

أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَٰنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ
আ আওাখিযু মিন দুনিহী য় আ- লিহাতান্ ইইয়্যুরিদ্নি রহমা-নু বিদ্বরিল লা-তুগ্নি আন্নী শাফা আতুহুম্ শাইয়াও অলা-ইয়ুন্ক্বিযুন।

> আমি কি তার পরিবর্তে অন্য  মাবুদ গ্রহণ করব?দয়াময় (আল্লহ) আমাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবেনা এবং তারা আমাকে উদ্ধার ও করতে পারবেনা।

(২৪)

إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
ইন্নী য় ইযাল্লাফী দ্বলা লিম -মুবীন

> এরুপ করলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত

(২৫)
إِنِّي آمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ
 ইন্নী য় আ-মান্ত বিরব্বিকুম্ ফাম্মা'ঊন্।

> আমিতো তোমাদের রবের উপর ঈমান এনেছি, অতএব তোমরা আমার।

(২৬)

قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ۖ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ
ক্বীলাদ খুলিল্ জ্বান্নাহ্ ক্ব-লা ইয়ালাইতা ক্বওমী ইয়া'লামুন।

> তাকে বলা হলঃ জান্নাতে প্রবেশ কর।সে বলে উঠলঃ হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত।

(২৭)
بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
বিমা-গফারলী রব্বি অজ্বা'আলানী মিনাল মুক্রমীন

> কি কারনে আমার রাবব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন

(২৮)

وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَىٰ قَوْمِهِ مِنْ بَعْدِهِ مِنْ جُنْدٍ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِينَ
অমা য় আন্যাল্ন 'আলা-ক্বওমিহী মিম্ বা'দিহী মিন্ জুন্দিম্ মিনাস্ সামা-য়ি অমা-কুন্না-মুন্যিলীন্।

> আমি তার মৃত্যুর পর তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ হতে কোন বাহিনী প্রেরণ করিনি এবং প্রেরণের প্রয়োজন ও ছিলনা।

(২৯)

إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ
ইন্ কা-নাত্ ইল্লা -ছোয়াইহাতাও ওয়া-হিদাতান্ ফাইযা-হুম্ খ-মিদূন্

> ওটা ছিল শুধু মাএ এক মহানাদ।ফলে তারা নিথর নিস্তব্দ হয়ে গেল।

(৩০)

يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ ۚ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
ইয়া -হাস্রতান্ 'আলাল্ 'ইবা-দি মা- ইয়াতীহিম্ মি রসুলিন্ ইল্লা -কা-নু বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ুন্।

> পরিতাপ বন্দাদের জন্য! তাদের নিকট যখনই কোন রাসুল এসেছে তখনই তারা তাকে৷ ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছে।

(৩১)

أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ
আলাম্ ইয়ারও কাম্ আহ্লাক্না-ক্বব্লাহুম্ মিনাল্ কুরুনি আন্নাহুম্ ইলাইহিম্ লা-ইয়াজ্বিঊন 

> তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি যারা তাদের মধ্যে ফিরে আসবেনা।

(৩২)

وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ
অইন ্ কুল্লুল্লাম্মা-জ্বামী'উল্লাদাইনা-মুহ্দ্বোয়ারুন্।

> এবং অবশ্যই তাদের সকলকে একএে আমার নিকট উপস্থিত করা হবে।

(৩৩)

وَآيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ
অ আ-ইয়াতু ল্লাহুমুল্ আদুল্ মাইতাতু আহ্ইয়াইনা-হা অ আখ্রজনা-মিন্হা-হাব্বান্ ফামিন্হু ইয়াকুলুন্।

> তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত ধরিত্রী, যাকে আমি সঞ্জীবিত করি এবং  যা হতে উৎপন্ন করি শস্য, যা তারা আহার করে।

(৩৪)

وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ الْعُيُونِ
অজ্বা'আল্না-ফীহা-জ্বান্না-তিম মিন নাখীলিও অআ'না বিও অফাজ্জ্বানা-ফীহা-মিনাল 'উয়য়ন।

> তাতে আমি সৃষ্টি করি খেজুর ও আঈুরের উদ্যান এবং উৎসারিত করি প্রস্রবণ- 

(৩৫)
لِيَأْكُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ ۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
লিয়াকুল মিন ছামারিহী অমা 'আমিলাত্হু আইদীহিম, আফালা-ইয়াশ্কুরুন।

> যাতে তারা আহার করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ তাদের হাত ওটা সৃষ্টি করে নি।
 তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেনা?

(৩৬)

سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ
সুব্হা-নাল্লাযী খলাক্বল্ আয্ওয়াজ্বা কুল্লাহা-মিম্মা- তুম্বিতুল্ আদু অমিন্ আন্ফুসিহিম্ অমিম্মা-লা-ইয়া' লামূন্।

> পবিত্র মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা  যাদেরকে জানেনা তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় 

(৩৭)

وَآيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُمْ مُظْلِمُونَ
অআ-ইয়াতুল্লা হুমুল্লাইলু নাস্লাখু মিন্ হুন্নাহা-র ফাইযা হুম্ মুজ্লিমুন

> তাদের এক নিদর্শন রাত, ওটা হতে আমি দিবালোক অপসারিত করি, তখন সকলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে 
পড়ে।

(৩৮)

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
অশ্শাম্সু তাজ্বী লিমুস্তাক্বরিল্লাহা,যা-লিকা তাকদীরুল্ আযীযিল্ আলীম।

এবং সূর্য ভ্রমণ করে ওর নিদিষ্ট গন্তব্যের দিকে।এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।

(৩৯)
وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ
অন্ ক্বমার ক্বদ্দানা-হু মানা-যিলা হাওা-আ-দা কাল্ উজুনিল ক্বদীম্।

> এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মানযিল, অবশেষে ওটা শুস্ক বক্র পুরাতন খেজুর শাখার আকার ধারন করে।

(৪০)

لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ۚ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
লাশ্ শাম্সু ইয়াম্বাগী লাহা য় আন তুদ্রিকাল অলাল্লাইলু সা-বিকুন্ নাহার্-; অ কুল্লুন্ ফী ফালাকিইঁ ইয়াস্বাহূন্।

> সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এরং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রতেকে নিজ নিজ কক্ষ পথে সাতার কাটে।

(৪১)

وَآيَةٌ لَهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
অ আ-ইয়াতুলাহুম্ আন্না-হামাল্না যুরিয়্যাতাহুম্ ফিল্ ফুল্লিল মাশ্হুন।

> তাদের জন্যে একটি নিদর্শন এই যে আমি তাদের সন্তান-সন্ততিকে বোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি। 

(৪২)

وَخَلَقْنَا لَهُمْ مِنْ مِثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ
অখলাক্ব্না-লাহুম্ মিম্ মিছ্লিহী মা-ইয়াকাবূন্।

> এবং তাদের নৌকার অনুরুপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি,যাতে তারা আরোহণ করে।

(৪৩)
وَإِنْ نَشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنْقَذُونَ
অইন্ নাশানুগ্রিক হুম্ ফালা-ছোয়ারীখ লাহুম্ অলা-হুম্ ইয়ুণ্ক্বযূন্।

> আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিমজ্জত করতে পারি,  তখন তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না। 

(৪৪)

إِلَّا رَحْمَةً مِنَّا وَمَتَاعًا إِلَىٰ حِينٍ
ইল্লা-রক্ষাতাম্ মিন্না-অমাতা-'আন্ ইলা-হীন্।

>কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে কৃপা এবং তাদেরকে কিছু কাল জীবনোপভোগ করার সুযোগ  দেয়ার কারণে তা করি না।

(৪৫)

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
অইযা-ক্বীলা লাহুমুওাকু মা-বাইনা আইদীকুম্ অমা-খল্ফাকুম্ লা'আল্লাকুম্ তুহুমুন্

> আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমারা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়,তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে। 

(৪৬)

وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ
অমা-তাতীহিম। মিন্ আ-ইয়া-তীম্ মিন্ আ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ ই্লা-কা-নূ আন্হা-মু'রিদ্বীন্।

> যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলীর মধ্য থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে,  তখনই তারা তা থেকে মুখেে ফিরিয়ে নেয়। 

(৪৭)

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنُطْعِمُ مَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ مُبِين 
  অ ইযা - ক্বীলা লাহুম ্আনফিকু মিম্মা -রযাক্ব কুমুল্লা-হু- ক্ব- লাল্লাযীনা কাফারু লিল্লাযীনা আ-মানূ য় আনুত্ব'ইমু মাল্লাও ইয়াশা- য়ুল্আত্ব।' আমাহূ য় ইন ্ আন্তম্ ইল্লা- ফী দ্বোয়ালা-লিম মুবীন্।

> যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করো, তখন কাফেররা মুমিনগণকে বলেন, ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলা যাকে খাওয়াতে পারেন , আমরা তাকে কেন খাওয়াবো? তোমরা তো স্পষ্ট  বিভ্রান্তিতে পতিত রয়েছে ।

(৪৮)

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ
অ ইয়াকুলূনা মাতা-হা-যাল্ ওয়া'দু ইন্ কুন্তম্ ছোয়া-দিক্বীন্

> তারা বলে,তোমরা সত্যবাদী হলে বল এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে?

(৪৯)

مَا يَنْظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ
মা-ইয়ান্জুরুনা ইল্লা-ছোয়াইঁহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান্ তাখুযুহুম্ অহুম্ ইল্লা-ছোয়াইঁহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান্ তাখুযুহুম্ অহুম্ ইয়াখিছ্ছিমূন্।

> তারা কেবল একটা  ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতন্ডাকালে।

(৫০)
فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَىٰ أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ
ফালা-ইয়াস্তাত্বী'ঊনা তাওছিয়াতাঁও অলা য় ইলা য় আহ্লিহিম ইয়াজ্বি'ঊন্।

> তখন তারা ওছিয়ত করতেও সক্ষম হবে না।  এবং তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না।

(৫১)

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُمْ مِنَ الْأَجْدَاثِ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يَنْسِلُونَ
অনুফিখ ফিছ্ ছুরি ফাইযা-হুম্ মিনাল্ আজদা-ছি ইলা- রব্বিহিম্ ইয়ান্সিলুন্।

> শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।

(৫২)

قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا ۜ ۗ هَٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ
ক্ব-লু ইয়া-অইলানা-মাম্ ব'আছানা-মিম্ মাক্বাদিনা-হা-যা-মা-অ'আরদা রক্ষা-নু অ ছদাক্বাল্ মুসালূন্।

> 
তারা বলব, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল রহমান, আল্লাহ তো এর ওই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন।

(৫৩)

إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ
ইন্ কা-নাত্ ইল্লা ছোহাই্ হাতাওঁ ওয়াদাহি দা তান ফাইযা হুম্ জ্বামী' উল্ লাদাইনা-মুহ্দ্বোয়ারুন্।

> এটা তো হবে কেবল এক মহানাদ। সে মুহুর্তেই তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।

(৫৪)

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ
ফাল ইয়াওমা লা-তুজলামু নাফসুন।শাইয়াঁও অলা-তুজযাওনা ইল্লা-মা-কুন্তম্ তা'মালূন্।

> আজকের দিনে কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিদান পাবে।

(৫৫)

إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ
ইন্না আছ্হা-বাল্ জ্বান্নাতিল্ ইয়াওমা ফী শুগুলিন্ ফাকিকিহূন্।

> এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থকবে।

(৫৬)
هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ
হুম্ অআয্ওয়া-জুহুম্ ফী জিলা-লিন্ 'আলাল্ আর - য়িকি মুওাকিয়ূন্।

> তারা এবং তাদের  স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশের আসনে হেলান দিয়ে। 

(৫৭)

لَهُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ وَلَهُمْ مَا يَدَّعُونَ
লাহুম্ ফীহা-ফা-কিহাতুঁও অলাহুম্ মা- ইয়াদ্দা'ঊন্।

> সেখানে তাদেরজন্য থাকবে ফলমূল এবং যা চাইবে

(৫৮)
سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ
সালা-মুন্ ক্বওলাম্ র্মি রর্ব্বি রাহীম্।

> করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম। 

(৫৯)

وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ
ওয়াম্তা-যুল্ ইয়াওমা আইয়ুহাল্ মুজরিমুন্।

> হে অপরাধীরা! আজ তোমার আলাদা হয়ে যাও।

(৬০)

أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ ۖ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ
আলাম্ আ'হাদ্ ইলাইকুম। ইয়া-বানী য় আ-দামা আল্লা-তা'বুদুশ্ শাইত্বোয়া-না ইন্নাহূ লাকুম্  'আদুওয়্যুম্ মুবীন।

> হেবনী-আদম! আমি কি তোমাদের কে বলে রাখিনি যে,শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? 
 

(৬১)
وَأَنِ اعْبُدُونِي ۚ هَٰذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ
অআ নি'বুদূনী হা-য-ছির- তুম্ মুস্তাক্বীম্।

> এবং আমার ইবাদত কর। এটাই সরল পথ। 

(৬২)

وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًا ۖ أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُو
অলাক্বদ্ আদ্বোয়াল্লা মিন্কুম্ জ্বিবিল্লান্ কাছীর, আফালাম তাকূনূ তা' ক্বিলূন্।

> শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে, তবুও কি তোমরা বুঝোনি? 

(৬৩)
هَٰذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
হা-যিহী জ্বাহান্নামুল্লাতী কুন্তুম্ তূ'আদূন্।

> এই যে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। 

(৬৪)
اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
ইছ্লাওহাল্ ইয়াওমা বিমা-কুন্তুম্ তাক্ফুরুন্।

> তোমাদের কুফারের কারণে আজ এতে প্রবেশ কর। 

(৬৫)

الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰ أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
আলাইয়াওমা নাখ্তিমু 'আলা য় আফ্ওয়া-হিহিম্ অ তুকাল্লিমুনা য় আইদীহিম্ আতাশ্হাদু র্আজুলুহুম্ বিমা-কা-নু ইয়াক্সিবূন্।

> আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।

(৬৬)

وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَىٰ أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّىٰ يُبْصِرُونَ
 অলাও নাশা -য় লাত্বোয়ামাস্তা-'আলা য় আ' ইয়ুনিহিম্ ফাস্তাবাক্বছ্ ছির- ত্বোয়া ফাআন্না-ইয়ুব্ছিরুন্।
 

> আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম,তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত! 

(৬৭)
وَلَوْ نَشَاءُ لَمَسَخْنَاهُمْ عَلَىٰ مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوا مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ
অলও নাশা-য়্ লামাসাখ্না-হুম্ 'আলা-মাকা-নাতিহিম্ ফামাস্ তাত্বোয়া -'ঊ মুদ্বিয়্যাওঁ অলা- ইর্য়াজ্বি'ঊন্।

> আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্ব স্ব স্থানে আকার বিকৃত করতে পারতাম,ফলে তারা আগেও চলতে পারত না এবং পেছনেও ফিরে যেতে পারত না।

(৬৮)

وَمَنْ نُعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِي الْخَلْقِ ۖ أَفَلَا يَعْقِلُون
অ মান্ নু'আ র্ম্মিহু নুনাক্কিস্হু ফিল্ খল্ক্ব; আফালা- ইয়া' ক্কিলুন্।

> আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান, করি তাকে সৃষ্ট গত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেই, তবুও কি তারা বুঝে না?

(৬৯)

وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ
অমা-'আল্লাম্না-হুশ্ শি'রা অমা-ইয়াম্বাগী লাহ্; ইন্ হুওয়া ইল্লা -যিক্রুঁও অক্বর্ আ-নুম্ মুবীন্।

> আমি রাসূলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্য শোভনীয় নয়। এটা তো এক উপদেশ ও প্রকাশ্য কোরআন।
(৭০)
لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ
লিইয়ু্ন্যির মান্ কা-না হাইয়্যাঁও অ ইয়াহিকক্বল্ ক্বওলু ‘আ্লাল কাফীরিন।

> যাতে তিনি সতর্ক করেন জীবিত কে এবং এবং এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

(৭১)

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُونَ
আওয়া লাম ইয়ারাও আন্না-খলাক্না-লাহুম্ মিম্মা - ' আমিলাত্ আইদীনা য় আন্'আ- মান্ ফাহুম্ লাহা-মা-লিকূন্।

> তারা কি দেখেনা, তাদের জন্য আমি আমার নিজ হাতে তৈরি বস্তুর দ্বারা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক। 

(৭২)

وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ
অ যাল্লাল্না- হা লাহুম্ ফামিন্হা- রকূবুহুম্ অ মিন্হা- ইয়াকুলু।

> আমি এগুলোকে তাদের হাতে অসহায় করে দিয়েছি।  ফলে এদের কতক বাহন কতক তারা ভক্ষণ করে।

(৭৩)

وَلَهُمْ فِيهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ ۖ أَفَلَا يَشْكُرُونَ
অলাহুম্ ফীহা- মানা- ফি'ঊ অমাশা-রিব্; আফালা-ইয়াশ্কুরূন্।

> তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তুর মধ্য অনেক উপকারিতা ও  পানিয় রয়েছে।  তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না।

(৭৪)

وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لَعَلَّهُمْ يُنْصَرُونَ
অওাখযু মিন্ দুনিল্লা-হি আ- লিহাতাল্ লা' আল্লাহুম্ ইয়ুন্ছোয়ারূন্।

> তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা সাহায্য প্রাপ্ত হতে পারে।

(৭৫)

لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُنْدٌ مُحْضَرُونَ
লা-ইয়াস্তাত্বী'ঊনা নাছ্রহুম্ অহুম্ লাহুম্ জ্বুন্দুম্  মুহ্দ্বোয়ারূন্।

> অথচ এসব উপাস্য তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম হবে না এবং এগুলো তাদের বাহিনী রূপে ধৃত হয়ে আসবে।

(৭৬)
فَلَا يَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ ۘ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ
ফালা- ইয়া্যুন্কা ক্বওলুহুম্; ইন্না-না'লামু মা- ইয়ুর্সিরুন -অমা ইয়ু’লিনূন্।

> অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে আমি জানি যা তারা গোপনে  করে এবং যা তারা প্রকাশ্যে করে। 

(৭৭)
أَوَلَمْ يَرَ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ نُطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُبِينٌ
আওয়ালাম্ ইয়ারল্ ইন্সা-নু আন্না-খলাক্ব্ না-হু মিন্ নুত্ব্ 
 ফাত্বনু ফাইযা-হুঅ খছীমুম্ মুবীন্।

> মানুষ কি দেখে না যে আমি তাকে সৃষ্টি করেছি  বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য  বাকবিতন্ডাকারী।

(৭৮)

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ ۖ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ
অ দ্বোয়ারাবা লানা-মাছালাঁও অ নাসিয়া খল্ক্বাহ্; ক্ব-লা
মাইঁ ইয়ুহ্য়িল্ ‘ইজোয়া-মা অহিয়া রমীম্।

> সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভুত কথা বর্ণনা  করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্হিসমূহ কে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে। 
(৭৯)
قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
কুল্ ইয়ুহ্য়ীহাল্লাযী য় আন্শায়াহা য় আও অলা্  র্মারাহ্;অহুওয়া বিকুল্লি খল্ক্বিন্ ‘আলীমুনি।

> বলুন যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। 

(৮০)

الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ مِنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنْتُمْ مِنْهُ تُوقِدُونَ
ল্লাযী জ্বা' আলা লাকুম মিনাশ শাজ্বারিল্ আখদ্বোয় না-রন্ ফাইযা য় আন্তুম্ মিন্হু তূক্বিদূ ন্।

> যিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন । তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও।

(৮১)
أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَىٰ أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ ۚ بَلَىٰ وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ
আওয়া লাইসাল্লাযী খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া বিক্ব-দিরিন্ ‘আলা য় আইঁ ইয়াখ্লুক্ব মিছ্লাহুম্; বালা-অহুওয়াল্ খল্লাকুল্ ‘আলীম্।

> যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি  করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ তিনি মহা স্রষ্টা সর্বজ্ঞ।

(৮২)

إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
ইন্নামা্ য় আম্রহূ য় ইযা য় আর- দা শাইয়ান্ আইঁ ইয়াকুলা লাহূ কুন্ ফাইয়াকুন

> তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন তাকে কেবল বলে দেন, 'হও' তখনই তা হয়ে যায়। 

(৮৩)

فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
ফাসুব্হা-নাল্ লাযী বিয়াদিহী মালা কুুতু কুল্লি শাইয়িঁও অ ইলাইহি র্তুজ্বাঊন্

> অতএব পবিত্র তিনি,যার হাতে সব কিছু রাজত্ব এবং  তারই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে । 

সূরা ইয়াসিন এর গুরুত্ব ও ফজিলতঃ-

পবিত্র কোরআনের ১১৪ টি সূরার মধ্যে সূরা ইয়াসিন একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূরা। যে কোন উদ্দেশ্য এই সূরা পাঠ করলে আল্লাহ পাঠকের উদ্দেশ্য পূরণ করে দেন । এ সূরা একবার পাঠ করলে দশ খতম কোরান পাঠের ছওয়াব লেখা হয় ও পাঠকের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। অন্য হাদীসে আছে রাতে শোয়ার পূর্বে এ সূরা পড়ে শুইলে নিষ্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হবে। এ সূরায় কুরআনের  সকল গুণের সমন্বয় সাধিত হয়।

এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এই সূরাকে কোরআন মাজিদের অন্তর বলে আখ্যায়িত করেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু ইসলাম বলেছেন এ সূরা বেশি বেশি করে আমল করো।। এই সূরা পাঠ করলে দশটি ফায়দা আছে, ক্ষুধা দূরীভূত হয়, বস্ত্রের ব্যবস্থা হয়, বিবাহ হতে যার দেরি হয় সে নিয়মিত পাটকলের শীঘ্রই তার বিবাহ হবে। বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি পাঠ করলে ভয় ও বিপদ থেকে রক্ষা পাবে। কোন ব্যক্তি কারাগারে আটকা পড়লে শীঘ্রই মুক্তি পাবে।। মুসাফির পাঠ করলে বন্ধু পাবে এবং হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পাবে। মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে পাঠ করলে সে ব্যক্তির মৃত্যু কষ্ট সহজ হবে।রোগাক্রান্ত ব্যক্তি পাঠ করলে  আরোগ্য হবে। 


আশা করি উপরের পোস্টটি পড়ে আপনারা  সুরা ইয়াসিন এর বাংলা অনুবাদ ও উচ্চারণ, ফজিলত সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের যেকোন সমস্যার সমাধান জানতে এবং আরও বিভিন্ন বিষয়ে জানার জন্য আমাদের পেজটিতে ফলো করে আমাদের সাথে থাকুন,ধন্যবাদ!! 
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url