শীতকাল নিয়ে কবিতা - শীতের দুপুর নিয়ে কবিতা

আপনি কি শীতকাল নিয়ে কবিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কেননা আজকের আর্টিকেলটিতে শীতকাল নিয়ে কবিতা সম্পর্কে জানানো হবে। তাই শীতকাল নিয়ে কবিতা জানতে হলে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।
শীতকাল নিয়ে কবিতা
নিচে আপনাদের জন্য শীতকাল নিয়ে কবিতা সহ বিভিন্ন বিষয় যেমন, শীতের রোদ কবিতা, ঠান্ডা নিয়ে কবিতা, কনকনে শীতের কবিতা এবং শীতের দুপুর নিয়ে কবিতা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে। যেখান থেকে আপনি খুব সহজেই শীতকাল নিয়ে কবিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে শীতকাল নিয়ে কবিতা জেনে নিন।

পেজ সূচিপত্রঃ শীতকাল নিয়ে কবিতা - শীতের দুপুর নিয়ে কবিতা

শীতের রোদ কবিতা

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। এই ৬ টি ঋতুর মধ্যে অন্যতম একটি ঋতু হচ্ছে শীত। শীতের সময় ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে আমাদের এই পৃথীবি। শীতের সময় সকল মানুষ যেন অপেক্ষা করে থাকে এক টুকরো রোদের জন্য। শীতের সময়ের রোদ যেন মানুষের কাছে অতি প্রত্যাশার। তাই অনেকে শীতের রোদ কবিতা পড়তে ভালোবাসে কিংবা অনেক জায়গায় শেয়ার করতে ভালোবাসে। তাই সকলের জন্য একটি শীতের রোদ কবিতা নিয়ে এসেছি। কবিতাটি tipsgateway.com থেকে সংগৃহীত।
ভোরের প্রথম সোনালী আলো
স্বপ্ন নতুন জাগিয়ে গেলো,
শিশির ভেজা ঘাসের পাতায়,
তোমার হাতের আলতো ছোয়ায়,
ফুটলো সকাল কাটলো রাত,
তাই মিস্টি মুখে জানাই তোমায়
"সুপ্রভাত"

ঠান্ডা নিয়ে কবিতা

এখন আপনাদের যে বিষয় নিয়ে জানানো হবে তা হচ্ছে ঠান্ডা নিয়ে কবিতা। শীতের সময় তীব্র ঠান্ডা মানুষের জীবন যাপনে বাধা হয়ে দ্বাড়ায়। অনেক কষ্টে মানুষ মোটা পোষাক পরে এই শীত অতিবাহিত করে। তবে এই তীব্র ঠান্ডা অনেকের কাছেই অনেক পছন্দের। তাই তারা ঠান্ডা নিয়ে কবিতা শুনতে চাই, পড়তে চায় বা শেয়ার করতে চায়। তাই সেসকল মানুষের জন্য নিচের এই ঠান্ডা নিয়ে কবিতাটি।কবিতাটি সুদীপ্ত সরকারের এবং tipsgateway.com থেকে সংগৃহীত।

"ঠান্ডার নেশায়
সুদীপ্ত সরকার"

আজ মনে লাগছে আমার৷
শীতল শীতের ভাবটি নেশার৷
কুয়াশা ব্যস্ত রত বইতে৷
শীতের হাওয়া জগতে মিশতে৷
এমন ঠান্ডার বিকল্প নাই৷
পড়লে নেশায় বুঝবে বাই৷

কনকনে শীতের কবিতা

শীতের তীব্রতা বুঝাতে কনকনে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। পৌষ মাঘ মাসে আমাদের দেশে এই কনকনে শীত পড়ে। এই কনকনে শীতে অনেক মানুষের জীবন যাপনে অনেক কষ্ট হয় আবার অনেক মানুষ এই শীত উপভোগ করে। এইসবকিছু মিলিয়ে কনকনে শীতের কবিতা লিখেছে অনেকেই। আপনাদের একটি কনকনে শীতের কবিতা এখন দেখানো হবে।কবিতাটি সংগৃহীত হয়েছে golpokobita.com থেকে।
"কনকনে শীতে
গোলাপ মিয়া" 

কনকনে শীতে ঘাসের উপর শিশির ঝরে,
সূর্যের আলোয় যেন মুক্তার মত ঝলমল করে।
কনকনে শীত সকালে একচুমুক খেজুরের রসে,
ষাট বছরের বুড়োর মতই কাপুনি যেন উঠে!
কনকনে শীতে চিতই-ভাপা ঘ্রাণে,
রাস্তার মোড়ে পিঠার দোকানে ভিড় জমে।
কনকনে শীতে নদীমতৃপ্রায় যৌবন হারায়,
আাকাশ পানে চেয়ে থাকে বৃষ্টির আাশায়!

কনকনে শীতে কড়কুঠু দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে,
গ্রামের জোয়ান-বুড়োরা গাল-গল্প করে!
কনকনে শীতে দিনমজুরের কষ্ট বাড়ে,
বস্রহীনতার প্রকোপে রোগবালাই ধরে!
কনকনে শীতে দিনের পর দিন চলে যাই,
পাইনা খুজে সূর্যের দেখা!
কনকনে শীতে কুয়াশায় চাদর মুড়িয়ে,
পথিক চলে গ্রাম বাংলার মেঠো পথে!

শীতের দুপুর নিয়ে কবিতা

শীতকালে সারাদিন ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে। শীতের দুপুরে যখন হালকা রোদ বের হয় তখন অনেক সুন্দর দেখায় দিনটি। এই শীতের দুপুর নিয়ে অনেক কবিতা রয়েছে। এখন আপনাদের শীতের দুপুর নিয়ে কবিতা দেখানো হবে। যেটা আপনারা বিভিন্ন জায়াগায় ব্যবহার করতে পারবেন। শীতের দুপুর নিয়ে কবিতাটি kobitarpata.com থেকে সংগৃহীত।

"শীতের দুপুর
শিবানী সাহা"

শীতের দুপুর মনে করতেই
মনে পড়ে ছোট বেলা,
স্নানের বাহানা করে সবাই
জল নিয়ে করতাম খেলা।
তারপর ঝপাস করে একটা ডুব
কাঁপতে কাঁপতে পাড়ে ওঠা,
গামছা দিয়ে গা মুছে নিয়ে
তাড়াতাড়ি রোদ্দুরে ছুট দেওয়া।

পুকুর পারে দাঁড়িয়ে ছড়া কাটা
আমার শীত বাঘের গায়,
সবাই মিলে একসাথে ডুব দিই
দিদি তুই তাড়াতাড়ি আয়।
খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ির সবাই
ভরদুপুরে উঠোনে পাটি পেতে,

মা কাকিমা ভাই বোন সবাই মিলে
নানা গল্পে উঠতাম মেতে।
দিন গড়িয়ে বিকেল হলেই
লাগতো গায়ে শীতল ছোঁয়া,
তৈরি হতো গরম গরম পিঠা পায়েস
কাঠের উনুনে উঠতো ধোঁয়া।

শীতকাল নিয়ে কবিতা

শীতকাল নিয়ে কবিতা - শীতকালের সময় মানুষ শীতকালকে আগমন জানায় কবিতার মাধ্যমে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শীতকাল নিয়ে কবিতা লিখে শেয়ার করে। তাই সকলের জন্য এখন শীতকাল নিয়ে একটি কবিতা উল্লেখ করা হবে।শীতকাল নিয়ে কবিতাটি kobita.banglakosh.com থেকে সংগৃহীত।
"ওগো শীত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর"

ওগো শীত, ওগো শুভ্র, হে তীব্র নির্মম,
তোমার উত্তরবায়ু দুরন্ত দুর্দম
অরণ্যের বক্ষ হানে। বনস্পতি যত
থর থর কম্পমান, শীর্ষ করি নত
আদেশ-নির্ঘোষ তব মানে। “জীর্ণতার
মোহবন্ধ ছিন্ন করো’ এ বাক্য তোমার
ফিরিছে প্রচার করি জয়ডঙ্কা তব
দিকে দিকে। কুঞ্জে কুঞ্জে মৃত্যুর বিপ্লব
করিছে বিকীর্ণ শীর্ণ পর্ণ রাশি রাশি
শূন্য নগ্ন করি শাখা, নিঃশেষে বিনাশি
অকাল-পুষ্পের দুঃসাহস।

হে নির্মল,
সংশয়-উদ্বিগ্ন চিত্তে পূর্ণ করো বল।
মৃত্যু-অঞ্জলিতে ভরো অমৃতের ধারা,
ভীষণের স্পর্শঘাতে করো শঙ্কাহারা,
শূন্য করি দাও মন; সর্বস্বান্ত ক্ষতি
অন্তরে ধরুক শান্ত উদাত্ত মুরতি,
হে বৈরাগী। অতীতের আবর্জনাভার,
সঞ্চিত লাঞ্ছনা গ্লানি শ্রান্তি ভ্রান্তি তার
সম্মার্জন করি দাও। বসন্তের কবি
শূন্যতার শুভ্র পত্রে পূর্ণতার ছবি
লেখে আসি’, সে-শূন্য তোমারি আয়োজন,
সেইমতো মোর চিত্তে পূর্ণের আসন
মুক্ত করো রুদ্র-হস্তে; কুজ্‌ঝটিকারাশি
রাখুক পুঞ্জিত করি প্রসন্নের হাসি।

বাজুক তোমার শঙ্খ মোর বক্ষতলে
নিঃশঙ্ক দুর্জয়। কঠোর উদগ্রবলে
দুর্বলেরে করো তিরস্কার; অট্টহাসে
নিষ্ঠুর ভাগ্যেরে পরিহাসো; হিমশ্বাসে
আরাম করুক ধূলিসাৎ। হে নির্মম,
গর্বহরা, সর্বনাশা, নমো নমো নমঃ।

হালকা শীতের কবিতা

হালকা শীতের কবিতা - এখন আপনারা হালকা শীতের কবিতা সম্পর্কে দেখে নিবেন। হালকা শীতের কবিতাটি সংগৃহীত হয়েছে www.bongconnection.online থেকে।

আমি দেখেছি আজ শীতের সকাল
শুনেছি মোরগের ডাক 
আহা কি সুন্দর, কি ঢকাল 
শুনেছি কলরব 
আর দেখেছি পাখি ঝাঁক ঝাঁক।

শীতের সকাল কত সুন্দর হয়
সে তো রাতের আঁধারের মত নয়
সবখানে ছরিয়ে পরেছে আলো
চারদিকে মলিন ওসনা কোথায় নেই কালো। 

শিশির বিন্দু তে ভিজা ঘাস
ঘরা ছেরে করে পাক পাক 
কয়েক টা হাঁস
নিম ডালে কা কা করে
নিরবে বসে দাঁর কাক 
আহা এমন সকাল দেখে যায় পরাণ ভরে। 

আমি সকাল দেখেছি
সকাল দেখেছি
তাই আজ সকালের চিত্র এঁকেছি।

শীতের বিকেলের কবিতা

শীতের বিকেলের কবিতা - কবিতাটি banglarkobita.com থেকে সংগৃহীত।

শেষ বর্ষার জলটুকু তোমার হৃদয়ের উত্তাপে করেছো শিশির
ভালবাসার রুমালটাকে উড়িয়েছো শরতের মেঘের আকাশে
তবু হৃদয়ের তারগুলো বেজে ওঠে অব্যক্ত বেদনায়,
নির্মল এ আকাশ চেয়ে দেখে কি অনিমেষ
সমস্ত শীতের বিকেল কি কষ্টের প্রহর,
কখনো সবটুকু আকাশ শুন্য হয়ে যেত প্রতীক্ষায় তোমার।
নরম রোদের বিকেলগুলো তোমার অপেক্ষায়
একটু একটু করে ক্ষণ যায়, ব্যাকুলতা বাড়ে
তারমাঝে কত কথা মনে মনে বলি

তোমাকে সাজায়ে মনের আয়নায় স্বপ্নের কলি
ক্রমশ বিকেলগুলো গড়িয়ে যেত সন্ধার লাজ মাখা ঠোঁটে
কুয়াশার জলে ভেজা পূর্ণিমা রাতে, মোহময়ী চাঁদ
মটরশুঁটির মাঠটাতে আলো ঢেলেছিল, তীব্র আলো
চাঁদপনা মুখে তোমার আলোর ঝিলিক
সরু আঙুলে আলো মেখে আমার ঠোঁটে রেখে বলেছিলে
তোমার ঠোঁট মসৃণ নয় মোটে, বলেছিলাম
বিকেলে প্রতীক্ষার শিশির ভেজা ঠোঁট।

শুধু কি ঠোঁট? ফাটে বুক, নাক, মুখ, হৃদয়ও যে ফাটে।
হৃদয়ের সেই ডাক তুমি শোননি, তাই এভাবেই প্রতীক্ষায়
অন্যায় জিদ, ভাগ করে রাখে, তোমাকে আমাকে।
তারপর কতদিন কেটে যায়, শীত আর অনাবিল কুয়াশায়,
শীতের বিকেলগুলো দ্রুত শেষ হয়, ফিঁকে হয়ে যায়
তোমার সব স্মৃতি  নতুন বসন্তের মাতাল হাওয়ায়
খুঁজে ফিরি নতুন জীবন।

শীতের কুয়াশা নিয়ে কবিতা

শীতের কুয়াশা নিয়ে কবিতা - শীতের কুয়াশা নিয়ে কবিতাটি tipsnetbd.com থেকে নেওয়া।

কুয়াশা ঝরা
শীতের সকাল
আমাকে পাঠায় নিমন্ত্রণ।
সারাটা দিন
কনকনে শীত
শীতে কাঁপি সর্বক্ষণ।

শীতের রোমান্টিক কবিতা

শীতের রোমান্টিক কবিতা - শীতের রোমান্টিক কবিতাটি tipsnetbd.com থেকে সংগৃহীত।
 
তোমায় মনে পড়ে,
শীতের সন্ধ্যা সাজানো
এই বিকেলে,
মিনি মিনি কুয়াশা ঘেরা
প্রকৃতির নীচে।
তোমায় মনে পড়ে,
ছাদের কানায় সাজানো
বেঞ্চিতে বসে,
ঐ দূরের পথ দিয়ে
এক্ষুণি যাবে কোথাও।

ছিঁড়ে গেছে প্রেম
ভালোবাসার বাঁধন,
তবু ভালোবাসি
ভালোবাসি আমি তোমাকে।
একটু দেখি বা না দেখি
তবু তার পূবাভাষ
বয়ে আসে বাতাসে,
ঐ আম বাগান
পুকুরের বুক চিরে।

মনে পরে যায়
তোমার ও মুখ খানা,
শরীরের লাবণ্য,
মনে পরে যায়
সেদিনের সেই
দূরে সরানোর ভাষা,
ছিঁড়ে ফেলা ভালোবাসার
কুটি কুটি চাহনি।

মনে পরে যায়
প্রথম দেখা তোমার
মুচকি হাসির ঝলকানি
ভালোবাসার ইশারায়।
ভালোবাসা, ভালোবাসা,
হা, ভালোবাসা,
তোমায় মনে পরে।

শীতের চাদর কবিতা

শীতের চাদর কবিতা - শীতের চাদর কবিতাটি golpokobita.com থেকে সংগৃহীত।

হিমেল হাওয়া বইছে এখন পাতা ঝরার পালা
শীতের খবর গাছ আগে পায় লোকের কতো জ্বালা।
টাপুর টুপুর শিশির কণা পড়ছে গাছের পাতায়
আসছে শীতে কঠিন কামড় বুকে কাঁপন ধরায়।

বরফ বোঝা কমবে বলে গাছের পাতা ঝরে
শীতের ছ্যাঁকা মানুষ জানে গায়ে চাদর চড়ে।
গরীব কতো বস্ত্র ছাড়া বৃদ্ধ- বৃদ্ধা শিশু
কে বাঁচাবে ওদের শীতে ঈশ্বর আল্লা যীশু?
পথের ধারে গুটি মেরে শুয়ে থাকে ওরা
রাত কেটে যায় ঘুম আসে না ওদের কপাল পোড়া।

ধুনি জ্বালায় তাপের আশায় প্রাণটি যদি বাঁচে
দারুণ কষ্টে জীবন কাটে ছেঁড়া কাঁথা যাঁচে।
কুয়াশা ঘোর ঘিরে রাখে গরীব লোকের জীবন
কষ্টে জীবন কাটে তাদের যেমন বিধির লিখন।
প্যাঁচার ডাকে ঘুম ভেঙে যায় লেপের টানাটানি
শীত পড়েছে বড্ড বেশী রাত যে অভিমানী।

অট্টালিকা পাশে দ্যাখো রঙিন বাতি জ্বলছে
গরীব দুখী প্রাণ বাঁচাতে শীতের চাদর খুঁজছে।
রবি মামার ঘুম ভাঙে না উঠছে দেরী করে
ভেজা রোদে শীত কাটে না মনে আগুন ধরে।

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন এবং শীতকাল নিয়ে কবিতা জানতে পেরেছেন। আর্টিকেলটিতে শীতকাল নিয়ে কবিতা বিভিন্ন ধরনের আলোচনা করা হয়েছে যেমন- শীতের চাদর কবিতা, শীতের রোমান্টিক কবিতা, শীতের কুয়াশা নিয়ে কবিতা ও শীতের বিকেলের কবিতা এবং হালকা শীতের কবিতা ইত্যাদি। আশা করি এসকল কবিতাগুলো আপনার অনেক কাজে আসবে। তাই এধরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করবেন, ধন্যবাদ। 21021.

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url