শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম - মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম

আপনারা কি শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম বা মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম ও তায়াম্মুমের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। যেকোনো অবস্থাতেই নামাজের কোন মাফ নাই। আজকে আমরা আলোচনা করব মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম, ইশারায় নামাজ পড়ার নিয়ম বা শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম এবং বসে নামাজ পড়ার হাদিস সম্পর্কে।
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ছবি, শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম এবং মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম - মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম

শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হচ্ছে ফরজ। প্রত্যেক মুমিনের ওপর সর্বাবস্থায় নামাজ আদায় করা অত্যাবশ্যক। কোন ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয়ে যায় তারপরও তাকে নামাজ আদায় করতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে নামাজ আদায় করার ধরন ভিন্নতা হয়ে থাকে। তারপরও নামাজ আদায়ের রোহিত হবে না। শুধুমাত্র তিন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে নামাজ রহিত হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি। নামাজ সর্বদা দাঁড়িয়ে পড়া ফরজ। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয়ে থাকে। তার যদি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অসুবিধা হয় তাহলে সে বসে নামাজ পড়বে।

তার যদি বসে নামাজ পড়তেও সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে নবীজি রাসূল সাঃ বলেছেন তোমরা শুয়ে নামাজ পড়ো। সেক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তিরা শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চেয়ে থাকে। আসলে আমাদের সকলেরই শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে থাকা উচিত। বলা যায় না কার কখন কোন বিপদ এসে যায়। কোন অবস্থাতেই যেহেতু নামাজ না পড়ার মাফ নাই সেহেতু আমাদের সব নিয়ম কানুন নেই জেনে থাকা আবশ্যক। তাই আমাদের আজকে আর্টিকেলটি শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম বা মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে। এখন আমরা শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম গুলো জানব।

আরো পড়ুনঃ জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি দাঁড়িয়ে কিংবা কোন কিছুতে হেলান দিয়ে বসে নামাজ আদায় করতে সক্ষম না হয় তাহলে সে ব্যক্তি শুয়ে নামাজ আদায় করবে। সে ক্ষেত্রে সম্ভব যদি হয় তাহলে কেবলার দিকে পা দিয়ে জিৎ হয়ে শুয়ে এবং মাথার নিচে বালিশ দিয়ে যতটুকু সম্ভব মাথা উঁচু করে নিতে হবে। মাথার ইশারার মাধ্যমে রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করতে হবে। সেক্ষেত্রে রুপোর ইশারার চাইতে সিজদার ইশারায় একটু বেশি ঝুকতে হবে। আর উত্তর দক্ষিণ হয়ে মাথাকে উত্তর দিকে রেখে ডান কাত হয়ে শুয়ে কিংবা মাথাকে দক্ষিণ দিকে রেখে বাম কাজ হয়ে শুয়ে চেহারা কেবলামুখী করে নামাজ আদায় করলেও নামাজ সহিহ হবে।

মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম| চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ছবি

নামাজ এমন একটা ইবাদত যা কোন অবস্থাতেই ছাড়া যাবে না। স্বাভাবিক সুস্থ ব্যক্তি কে দাঁড়িয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। তবে কোন ব্যক্তি যদি তাড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হয় তাহলে সে ব্যক্তি মাটিতে বসে নামাজ পড়তে পারবে। তাই আজকে আমি মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম বা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ছবিগুলো নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। কোন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি বসে বসে রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করবে। 

কয়েকটা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ছবি দেয়া হলোঃ

encrypted-tbn0.gstatic.com
তাই মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম হচ্ছে রুকু সিজদা আদায়কারী নামাজে রুকুর চাইতে সিজদায় একটু বেশি ঝুকবে। না হলে শুদ্ধ হবে না তার নামাজ। (তিরমিজি, হাদিসঃ ৩৭৬)। বসে সিজদা করার ক্ষেত্রে ওপরে কোন জিনিস তোলা এবং সেটাতে সিজদা করার কোন প্রয়োজন নেই। (সুনানে কুবরা, হাদিসঃ ৩৮১৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১/২৭৩)

ইশারায় নামাজ পড়ার নিয়ম

কোন ব্যক্তি যদি অসুস্থতার জন্য বসে নামাজ পড়তে অপারগ হয়ে থাকে, তাহলে সে ব্যক্তি ইশারার মাধ্যমে শুয়ে শুয়ে নামাজ পড়বে। তখন অসুস্থ ব্যক্তির পা কিবলার দিকে করে তাকে শোয়াতে হবে। মাথাকে সামান্য উপরে তুলে শোয়াতে হবে। যেন কেবলার দিকে চেহারা হয়। তারপরে ইশারার মাধ্যমে রুকু সিজদা করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাঃ ১/২৭৩)। অন্তত মাথা দিয়েও তখন যদি ইশারা করা হয়ে থাকে তাহলে তা রুকু সিজদার স্থলাভিষিক্ত বিবেচিত করা হবে।

আবার যদি অসুস্থ ব্যক্তি মাথা দিয়েও ইশারা করবার মত সক্ষমতা না রেখে থাকে সেক্ষেত্রে কতক্ষণ এ অবস্থা থাকে সেটা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যদি অবস্থান উন্নতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষ হবার পর হয়ে থাকে তাহলে ওইসব নামাজ কাজা করবে মাথা দিয়ে ইশারা করে। যদি এর চাইতেও বেশি সময়ে উন্নতি না হয়ে থাকে, তাহলে ওই সকল নামাজ তার দায়িত্ব থেকে চলে যাবে। তাকে আর এগুলো আদায় করা লাগবে না। (মুআত্মা মোহাম্মদ, হাদিসঃ ২৭৮; দ্বারাকুতনি, হাদিসঃ ১৮৮৩)।

বসে নামাজ পড়ার হাদিস

ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাঃ কে আমি বসে সালাত আদায় কারীর ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লো সে উত্তম আর যে ব্যক্তি বসে নামাজ আদায় করলেন তার জন্য দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব। আর যে ব্যক্তি শুয়ে সালাত আদায় করল, তার জন্য বসে নামাজ আদায় কারীর অর্ধেক সওয়াব। (বুখারী, হাদিসঃ ১১১৬)। বসে নামাজ পড়ার হাদিস এর আলোকে ইসলামী আইনবিদরা বলেছেন, দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কারী সক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফরজ এবং ওয়াজিব নামাজ বসে পড়া শুদ্ধ না। (বুখারী, হাদিসঃ ১০৫০)

তবে হ্যাঁ, কোন ধরনের সমস্যা কিংবা ওজরের কারণে বসে নামাজ পড়তে পারবেন। আর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সক্ষম ব্যক্তির জন্য জায়েয আছে নফল নামাজ বসে পড়া। (বুখারী, হাদিসঃ ১০৪৯)।

আরো পড়ুনঃ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ - মাথা ব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখার কারণ কি

যে ব্যক্তি নামাজ বসে পড়বে সে তাশাহুদের মত বসবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাঃ ২/৫২৭)

দাঁড়িয়ে নফল নামাজ শুরু করে দেয়া ব্যক্তি বসে সেটা পরিপূর্ণ করতে পারবে, তাতে কোন ধরনের অসুবিধা নাই। (সহীহ বুখারী, হাদিসঃ ৪/২৭৪)

ইমাম আবু হানিফা রাঃ এর মতানুসারে, কোন ধরনের ওজর ছাড়া ও জাহাজের উপরে বসে নামাজ পড়া জায়েজ। (সুনানে কুবরা, হাদিসঃ ৫৭০২)

রুকু সিজদায় সক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইশারা করে জাহাজে নামাজ পড়া শুদ্ধ নয়। (বুখারী, হাদিসঃ ১০৫০)।

তায়াম্মুমের নিয়ম

ইবাদত পালন করার জন্য ইসলামের পবিত্রতা অর্জন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্রতা অর্জন সাধারণত গোসল, ওযু ইত্যাদির মাধ্যমেই হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে, পবিত্রতা অর্জন করার জন্য কোন কোন স্থানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকে না। কিংবা ব্যক্তির জন্য পানি ব্যবহার ক্ষতিকর। এমন পরিস্থিতিতে তায়াম্মুম করার অনুমতি ইসলাম আমাদের দিয়েছেন। মহান আল্লাহ এ বিষয়ে এরশাদ করেন, ' আর তোমরা যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে গিয়ে থাকো অথবা কেউ যদি তোমাদের মধ্যে থেকে প্রসাব পায়খানা করে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে কিন্তু এরপর যদি পানি প্রাপ্তির সম্ভাবনা না পেয়ে থাকো তাহলে পবিত্র মাটির মাধ্যমে তায়াম্মুম করে নাও।

আরো পড়ুনঃ শাবান মাসের রোজা কয়টি

মুখমন্ডল এবং হাত মাসেহ করো। আল্লাহ নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল।' (সূরাঃ নিসা, আয়াতঃ ৪৩)। হাদীস শরীফে তায়াম্মুমের বৈধতা সম্পর্কে এসেছে, ' আগের নবীদের উম্মতের চাইতে এই উম্মতকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে তিন বিষয়ে। ফেরেশতাদের কাতারের মত আমাদের কাতার বানানো হয়েছে, আমাদের জন্য সারা ভূখণ্ডকে মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পানি না পাওয়া অবস্থাতে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে মাটিকে বানানো হয়েছে। (বুখারীঃ ১/২০৯)।

শেষ কথাঃ শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম - মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম

শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম বা মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম বা মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ আর নয়, শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম বা মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই শুয়ে নামাজ পড়ার নিয়ম বা মাটিতে বসে নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url