হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা - হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় রয়েছে। তবে হিজামার উপকারিতা অপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি। তাই চাইলে আপনি হিজামা থেরাপি গ্রহণ করতে পারেন। যাইহোক, এই আর্টিকেলটিতে হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সমূহ।

পেজ সূচিপত্র: হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা - হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

উপস্থাপনা

হিজামা চিকিৎসা পদ্ধতি, খুবই প্রাচীন এবং কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। হিজামা চিকিৎসা গ্রহণ করার কারণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে মাইগ্রেনের সমস্যা বা শিরদাঁড়ার ব্যথা সহ শারীরিক বিভিন্ন রোগ নিরাময় করার উপায় হিসেবে হিজামা ব্যবহার করা যেতে পারে। হিজামা মাথেরাপীর মাধ্যমে রক্তের টক্সিক বের করা হয়। 

শরীরে থাকা অচল ও অপ্রয়োজনীয় মৃত রক্ত সমূহ শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা হওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরের এই ও অব্যবহারিত রক্ত। আর হিজামা থেরাপির মাধ্যমে শরীরের এই দূষিত রক্ত সমূহ বের করে ফেলা হয়। যার ফলে, শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের ব্যথা দূরীভূত হয়।

আপনি যদি হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগের সহিত পড়তে হবে। আপনি যদি মনোযোগের সহিত পুরো আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে আশা করি, হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। তো দেরি না করে চলুন দেখে নেয়া যাক, হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত। 

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা 

উপকারীতার পাশাপাশি প্রত্যেক চিকিৎসা পদ্ধতিরই কিছু অপকারিতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হিজামা গ্রহণ করার ফলেও শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাই হোক, হিজামা গ্রহণ করার ফলে আপনি যে সকল শারীরিক উপকারিতা লাভ করবেন সেই বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। 
এর পাশাপাশি হিজামা গ্রহণ করার ফলে শারীরিক যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হবে। নিচে হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো। 

হিজামার উপকারিতা সমূহ:
  • শরীরের যেকোনো ধরনের ব্যাথা নিরাময়ের কার্যকর ভূমিকা পালন করে: শরীরের যেকোনো ধরনের ব্যথা নিরাময়ে হিজামা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে হিজামা খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং মেরুদন্ডের ব্যথা নিরাময় করতে হিজামা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। 
  • সুনিদ্রা আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে: কাপিং থেরাপি বা হিজামা সুনিদ্রা আনয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই আপনার যদি ঘুমের সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে আপনি হিজামা থেরাপি গ্রহণ করতে পারেন। আশা করি আপনি যদি সঠিকভাবে হিজামা থেরাপি গ্রহণ করেন তাহলে অনিদ্রজনিত সমস্যা দূর হয়ে যাবে। 
  • শরীরের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: হিজামা থেরাপি গ্রহণ করলে, শারীরিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। রক্ত থেকে টক্সিক বের হয়ে যাওয়ার ফলে শরীর চন মনে থাকে। শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এর ফলে শারীরিক কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
  • ত্বক ও চুল সুস্থ রাখে: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কাপিং থেরাপি বা হিজামা গ্রহণ করলে ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যেহেতু হিজামা থেরাপির ফলে শরীরের দূষিত রক্ত বের হয়ে যায় তাই ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং চুলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। 
  • বয়সের ছাপ কমায়: হিজামা থেরাপি গ্রহণ করলে বয়সের ছাপ কমে যায়। তাই যারা নিয়মিত হিজামা থেরাপি গ্রহণ করেন তাদের শরীরের সহজে বয়সের ছাপ পড়ে না। এছাড়াও হিজামা থেরাপি গ্রহণ করার আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। 
হিজামার অপকারিতা সমূহ:

হিজামার তেমন কোন অপকারিতা নেই। হিজামা থেরাপি গ্রহণ করলে, সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। হিসাবে থেরাপি গ্রহণ করলে যে সকল সমস্যা হতে পারে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, হিজামার অপকারিতা সমূহ। 
  • ত্বকে সামান্য দাগ হতে পারে: হিজামা দিতে হলে ত্বকে সামান্য ক্ষত করতে হয়, আর এ কারণে হিজামা স্থানে কিছুদিন সামান্য দাগ দেখা যেতে পারে। 
  • হিজামার স্থানে সামান্য চুলকানি হতে পারে: কখনো কখনো হিজামারা স্থানে চুলকানি দেখা দিতে পারে, যদি সামান্য চুলকানি হয় তাহলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তবে চুলকানি যদি অনেক বেশি হয় সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 
  • কখনো কখনো যাওয়ার কারণে শরীরে সামান্য অস্বস্তি ভাব দেখা দিতে পারে: হিজামা থেরাপি গ্রহণ করার সময় বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়, এবং নেগেটিভ প্রেসার দিয়ে দূষিত রক্ত বের করা হয় তাই নিজামার কারণে সামান্য অস্বস্তি ভাব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। 
  • কখনো কখনো হিজামার কারণে হিজামার ব্যথা হতে পারে: হিজামার স্থানে যদি কোন ধরনের ইনফেকশন হয় সেক্ষেত্রে হিজমারি স্থান ব্যথা হতে পারে। অল্প ব্যথা হলে তেমন কোন সমস্যা নেই তবে ব্যথা বেশি হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন। 
হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আশা করি বিস্তারিত তথ্য জানতে পারলেন কেননা ইতোমধ্যেই উপরে, হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। নিচে, হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ উল্লেখ করা হবে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ। 

হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই সামান্য। আপনি যদি হিজামার উপকারিতার সাথে হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তুলনা করেন, সেক্ষেত্রে হিজাবার উপকারিতা অনেক বেশি। সুতরাং হিজামার উল্লেখযোগ্য কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। হিজামার সামান্য যে সকল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ নিম্নরূপ।
  • ত্বকের সংক্রমণ: কখনো কখনো হিজামা থেরাপির কারণে ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। আপনি যদি তাকে কোন ধরনের সংক্রমণ লক্ষ্য করেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। 
  • ত্বকের ক্ষত: পূর্বেই বলা হয়েছে যে, হিজামা থেরাপি নেয়ার সময় তাকে সামান্য ক্ষত করতে হয়। যেই ক্ষত গুলো দিয়ে দূষিত রক্ত উপরে উঠে আসে। এই ক্ষতগুলো আপনার শরীরে কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। 
  • হিজামার স্থানে পড়ে যাওয়ার মত অনুভূতি: হিজামা থেরাপির কারণে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে রক্ত বের হয়ে যায় সেক্ষেত্রে হিজমার স্থান পুড়ে যাওয়ার মত অনুভূতি হতে পারে। তবে এটি বড় কোন সমস্যা নয়। যদি জ্বালাপোড়া অনেক বেশি হয় এবং স্থায়ী হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতেই হবে। 
  • শরীরে ব্যথা: কখনো কখনো হিজামা থেরাপি নেয়ার পরে শরীরে ব্যথা হতে পারে। এটি তেমন গুরুতর কোন সমস্যা নয়, দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে এমনটি হতে পারে।
হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি? আশা করি তা জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যেই উপরে, হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তাই আপনি যদি, প্রথম থেকে আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। 

হিজামা খরচ

ক্লিনিক ভেদে হিজামা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। মনে রাখবেন হিজামা কিন্তু তেমন, ব্যয় সাধ্য কোন থেরাপি নয়। তাই কোন হিজামা সেন্টার যদি আপনার কাছে অতিরিক্ত মাত্রায় চার্জ করে সেক্ষেত্রে সেই হিজামা সেন্টার পরিহার করাই ভালো।  
সব ধরনের, ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে হিমা করানোর পূর্বেই হিজামা খরচ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হিজামা সেন্টারের সাথে কথা বলতে হবে। তা না হলে হিজামা করানোর পরে, অতিরিক্ত চার্জের মুখোমুখি হতে পারেন। হিজামা খরচ কত আশা করি তা জানতে পারলেন। ইতোমধ্যেই উপরে, হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

উপসংহার

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং হিজামার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে আশা করি তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। হিজামা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে, তাহলে সকলের সাথে শেয়ার করবেন। ১৬৪১৩

Next Post Previous Post
1 Comments
  • Borsha sheikh
    Borsha sheikh ২০ জুলাই, ২০২৩ এ ১১:৩৬ PM

    অনেক কিছু শিখতে পারলাম😑

Add Comment
comment url