জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি

আপনারা কি জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি বা এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি কোরআন ও ফজরের নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা আলোচনা করব জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি হাদিস, ১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি বা মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf সম্পর্কে।
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি এবং জুমার নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি

জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি| জুমার নামাজ না পড়ার শাস্তি

নামাজ হচ্ছে মুসলমানদের জন্য সুনির্দিষ্ট ফরজ ইবাদত এবং ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ। নামাজ হচ্ছে ঈমান আনার পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল। প্রতিদিন জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। দাঁড়িয়ে, শুয়ে, বসে, ইশারায় যে যেভাবেই সম্ভব হবে নামাজ আদায় করতে হবে নামাজ ছাড়া যাবে না। একজন মুমিন ব্যক্তি পথে-ঘাটে, ঘরে বাইরে, সাগরে মহাকাশে, দেশে বিদেশে যেখানে অবস্থান করুক না কেন তাকে নামাজ পড়তেই হবে। নির্দিষ্ট সময়ে জামায়াতে সহিত হয়ে নামাজ আদায় করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ধান বীজ শোধন পদ্ধতি - ধান বীজ শোধন ঔষধ

মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন যে, মুমিনদের জন্য নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক কর্তব্য। (সূরা নিসাঃ ১০৩)। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্ত নামাজ বাদ দিল তার জন্য রয়েছে শাস্তি। জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি রয়েছে। জামায়াতের সাথে নামাজ পড়া প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। তথা ওয়াজিবের কাছাকাছি অনেকটাই। সেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি বিনা কারণে জামাত ছেড়ে দেয় তাহলে সে ব্যক্তির জন্য জামাতে নামাজ না পড়ার শাস্তি স্বরূপ গুনাহগার হবে।

এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি| ১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি হাদিস

নবী সাঃ বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি একাত্ম নামাজ ছেড়ে দেয় আর ইতিমধ্যে ওই নামাজের ওয়াক্ত পার হয়ে গিয়ে থাকে এবং নামাজ আদায় করে নেয়, তারপরও এক হুকবা জাহান্নামের শাস্তি তাকে দেওয়া হবে। এক হুকবা হচ্ছে ৮০ বছর। আর ৩৬০ দিন প্রত্যেক বছর। আর প্রতিটা দিন হচ্ছে ১০০০ বছরের সমান। তোমরা যেভাবে গণনা করো। উল্লেখ্য, উক্ত হিসাব অনুসারে সর্বমোট দুই কোটি ৮৮ লক্ষ বছর হয়ে থাকে। এই বর্ণনাটি একদম বানোয়াট ও মিথ্যা। উক্ত বক্তব্যটা হচ্ছে তাবলীগ জামাতের অনুসরণীয় গ্রন্থ ফাজাইলের আমল।

এই আমলের ফাজায়েলে উল্লেখ করা হয়েছে নামাজ অংশে। কিন্তু কোন প্রমাণ সেখানে পেশ করা হয়নি। বরং এভাবেই বলা হয়েছে 'মাজালিসুল আবরারে' উল্লেখ করা হয়। তবে হাদিসের মধ্যে আমার কাছে যে সমস্ত গ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে আমি এটা পাইনি। এটা যেহেতু লেখক নিজেই স্বীকার করেছে, সেহেতু আর কোন মন্তব্যের দরকার নাই। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, স্পষ্ট হবার পর রাসূল সাঃ এর নামে কেন তা বর্ণনা করতে হবে? তার নামে এটা নিঃসন্দেহে মিথ্যাচারের শামিল।

আরো পড়ুনঃ শীতকালীন রোগ সমূহ - শীতকালীন রোগ ও প্রতিকার

সহি হাদিসের দৃষ্টিকোণ থেকেও সঠিক নয় কথাটা। কেননা রাসূল সাঃ বলেছেন, ভুল বা ঘুমের কারণে নামাজ ছুটে যায় যে ব্যক্তির, তার কাফফারা হচ্ছে যখন তার স্মরণে হবে তখনই সে যেন নামাজ পড়ে নেই। এছাড়া রাসুল সাঃ এবং সাহাবায়ে কেরাম সূর্য ডোবার পর খন্দকের যুদ্ধের দিন আসরের নামাজ আদায় করেন। তারপর মাগরিবের নামাজ আদায় করেছিলেন। তাছাড়া একদিন ফজরের নামাজ ও সূর্যের তাপ বাড়ার পরে তারা পড়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে তাদের শাস্তি কত বছর হতে পারে? (নাউজুবিল্লাহ)।

ফজরের নামাজ না পড়ার শাস্তি কোরআন

ফরজ নামাজ না পড়া মারাত্মক অপরাধ। পদ্ধতিগত ভাবে পার্থক্য থাকার পরেও আগের নবীদের যুগে নামাজ পড়ার বিধান ছিল। কিন্তু নামাজের ব্যাপারে তাদের পরবর্তী লোকেরা গাফিল হয়ে পড়ে। এর পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হেদায়েতপ্রাপ্ত ও নবীদের পর এমন এক অপদার্থ বংশধর এলো, যারা প্রবৃত্তির পূজারী হলো এবং নামাজ বিনষ্ট করল। সুতরাং গায় নামক জাহান্নামের শাস্তি তারা প্রত্যক্ষ করবে। তবে এরপর যারা তওবা করেছে, নেক আমল করেছে এবং ঈমান এনেছে জান্নাতের তারাই তো প্রবেশ করবে এবং কোন ধরনের জুলুম তাদের প্রতি করা হবে না। (মারিয়াম, আয়াতঃ ৫৯-৬০)।

অন্য আয়াতে আছে, জাহান্নামিদের কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে, সাকার নামক জাহান্নামে তোমরা কেন এলে? তারা তখন বলবে, আমরা মিসকিনদের খাবার দিতাম না এবং নামাজে ছিলাম না। বরং সমালোচনা কারীদের সাথে আমরা সমালোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। এমনকি প্রতিদান দিবসকে আমরা অস্বীকার করতাম। আর আমাদের মৃত্যু এভাবেই হঠাৎ করে এসে গেল। ইহকালে নামাজ না পড়লে অনেক ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে।

মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি

নামাজ না পড়লে মৃত্যুর পর জাহান্নামে যাবার কারণ হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনে এসেছে, তোমাদের (জাহান্নামিদের কে জিজ্ঞেস করা হবে) জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে কোন জিনিস? তারা তখন বলবে, আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত না। (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৪২-৪৩)। অর্থাৎ মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুসারে, বেনামাজি কে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের গভীর গর্তে নিক্ষেপ করা হবে। ইব্রাহিম, নুহু এবং ইসরাইল আলাইহি ওসাল্লাম এর ব্যাপারে বর্ণনা করার পর মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, তাদের পরে পরবর্তী রা আসলো অপদার্থ, এরা নামাজ নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করিল। সুতরাং অচিরেই তারা গাইয়া প্রত্যক্ষ করবে। (সুরা মরিয়মঃ ৫৯)।

জাহান্নামের একটা নদীর তলদেশ হচ্ছে গাইয়া। যার অনেক গভীরতা, যেখানে রয়েছে পুঁজ ও রক্তের নিকৃষ্টতম আস্বাদ। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)। জাহান্নামের একটা উপত্যকার নাম হচ্ছে গাইয়া। (তাফসীরে কাশশাফ ও নাসাফি)। মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি হবে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার শিকার হবে। তার বিবরণ কোরআনের একটা আয়াতে এসেছে যে, সেদিনের কথা স্মরণ করো, পায়ের গোছা যেদিন উন্মোচন করা হবে। সেজদা করার জন্য সেদিন তাদের আহবান করা হবে। তাদের হীনতা, দৃষ্টি অবনত তাদের আচ্ছন্ন করতে থাকবে। অথচ তারা যখন নিরাপদ ছিল, তখন তো তাদের সিজদা করতে আহ্বান করা হয়েছিল। (সূরা কালামঃ ৪২-৪৩)।

নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf

এখন আমরা নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf নিয়ে আলোচনা করব। নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। নামাজ না পড়লে কি কি শাস্তি হতে পারে তা আমরা আলোচনা করেছি। বেনামাজীর নূর ও নাজাতের দলিল কিয়ামতের দিন থাকবে না। রাসূল সাঃ আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, নামাজের হেফাজত যে ব্যক্তি করবে না, কিয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য আলো বা নূর হবে না। এমনকি নাজাতের দলিল হবেন না।

আরো পড়ুনঃ হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায় কেন - জ্বর হলে হাত পা ঠান্ডা হয় কেন

বেনামাজির হাশর বড় বড় কাফেরদের সাথে হবে। রাসূল সাঃ বলেছেন, বেনামাজি ব্যাক্তি কেয়ামতের দিন হামান, ফেরাউন, কারুন ও উবাই ইবনে খালফের সাথে থাকতে হবে। জাহান্নামে যাবে বেনামাজিরা। যখন আল্লাহর নেক বান্দারা জান্নাতে যাবে, তখন তারা জাহান্নামীদের সম্পর্কে কথাবার্তা বলবে। অপরাধীদেরকে জান্নাতীরা জিজ্ঞাসা করবে যে, এ ভয়ানক জাহান্নামে কোন জিনিস তোমাদেরকে পৌঁছেছে? জাহান্নামিরা তখন উত্তরে বলবে, দুনিয়াতে আমরা নামাজীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। তাই আমাদের এ ধরনের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ না পড়ার শাস্তি কি ধরনের তার একটা বই অনুসরণ করতে হবে। এগুলো বিষয়ে জানতে হবে। ইন্টারনেটে pdf ফাইল ডাউনলোড করে ও এই বই পড়তে পারেন।

শেষ কথাঃ জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি

জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি গুলো সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি হাদিস সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ আর নয়, জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই জামায়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url